﴿قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ ٣ وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ ٤﴾ [الاخلاص: ١،  ٤]

﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلۡفَلَقِ ١ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ٢ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ٣ وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِي ٱلۡعُقَدِ ٤ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ٥﴾ [الفلق: ١،  ٥]

﴿قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١ مَلِكِ ٱلنَّاسِ ٢ إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ٣ مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ ٤ ٱلَّذِي يُوَسۡوِسُ فِي صُدُورِ لنَّاسِ ٥ مِنَ ٱلۡجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ ٦﴾ [الناس: ١،  ٦] 

সকাল সন্ধ্যা ও ঘুমের আগে তিনবার এবং প্রত্যেক সালাতের পর একবার পড়া।

যীলত:

ক. সব কিছুর জন্য যথেষ্ট

আব্দুল্লাহ ইবন খুবাইব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, প্রবল বৃষ্টি ও কঠিন অন্ধকারাচ্ছন্ন এক রাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খোঁজে বের হলাম আমাদের ইমামতি করার জন্য। দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধানের পর তাকে পেলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, বল। আমি নীরব রইলাম। তিনি পুনরায় বললেন, বল। আমি নীরব রইলাম। সকাল সন্ধ্যায় তিনবার তুমি পড়ে নাও-

قُلْ هُوَ اللَّهُ أحَدٌ

قُلْ أعُوْذُ بِرَبِ الْفَلَقِ

قُلْ أعُوْذُ بِرَبِ النَّاسِ

যা তোমার জন্য সব কিছু থেকে যথেষ্ট হবে।[1]

ুই. দু’টি উত্তম সূরা যার বিনিময়ে চাওয়া যায় এবং যার দ্বারা আশ্রয় চাওয়া যায়:

উকবা ইবন আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হে উক্ববা আমি পঠিত দু’টি উত্তম সূরা সম্পর্কে জানাব। কুল আউযু বিরাব্বিন নাস, কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। হে উকবা, যখনই তুমি ঘুমাবে বা ঘুম থেকে উঠবে তখনই এ দু’টি সূরা পড়বে। কোনো যাচ্ঞাকারী কিংবা কোনো আশ্রয়প্রার্থী এ দু’টির মতো অন্য কোনো কিছু দিয়ে আশ্রয় চায় ন।”[2]

িন. জিন্ন-ইনসানের অনিষ্ট থেকে রক্ষাকারী

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে, তিনি বলেন, সূরা নাস ও ফালাক নাযিল হওয়ার আগ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন্ন-ইনসানের চোখ লাগা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন। এ দুই সূরা নাযিল হওয়ার পর এ দু’টির ওপর আমল শুরু করেন এবং বাকী সব ছেড়ে দেন।[3]

 

পাঁচ

لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاللَّهِ

কোনো সংখ্যা নির্ধারিত না করে যত বেশি সম্ভব পড়া।

যীলত:

ক. জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের একটি ভাণ্ডার

আবু মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: আমি কী তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহ থেকে একটি ভাণ্ডারের সুসংবাদ দেবো না?

আমি আরয করলাম, অবশ্যই, বলুন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি তখন আমাকে বললেন: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ এ বাক্যটি পড়।[4]

ুই. বিপদ থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক ফলপ্রদ

আল্লামা ইবনুল কায়্যেম রহ. বলেন, কঠিন কাজ সহজে উদ্ধার করা, কষ্ট-ক্লেশ হালকা করা, ক্ষমতাসীনদের দরবারে প্রবেশের ভয়-ভীতি দূর করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অনুকূলে আনার ক্ষেত্রেও এ কালেমার বিশাল প্রভাব রয়েছে।[5]

প্রখ্যাত মুসলিম সেনানায়ক হাবিব ইবন সালামাহ রহ. শত্রুর মুখোমুখী হওয়ার সময় অথবা দুর্গ অবরোধের সময় لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ পড়াকে প্রাধান্য দিতেন। একবার রোমের একটি দূর্গ ঘেরাও করে মুজাহিদগণ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার প্রাক্কালে এ কালেমা পড়ে তাকবীর দেওয়ার সাথে সাথে দূর্গটি ধসে পড়ে।[6]

িন. সকল রোগ-ব্যধির প্রতিষেধক যার নিম্নস্তর হলো চিন্তা

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ পড়বে তার জন্য এটা নিরানব্বইটি রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করবে, এর সর্বনিম্ন হলো, চিন্তা দূর হয়ে যাবে।[7]

( لا حول ولا قوة إلا باللهএর উদ্দেশ্য ও মর্ম হলো কোনো কল্যাণ অর্জন করা বা অকল্যাণ থেকে বেঁচে থাকা একমাত্র আল্লাহর হুকুমেই সম্ভব।)

ার. ক্ষতি নিরোধক, যার সর্বনিম্ন পর্যায় হলো দারিদ্রতা:

মাকহূল বলেন, (সুতরাং যে কেউ বলবে, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, ওয়ালা মানজা মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি’ বলবে তার সত্তরটি ক্ষতি নিরোধ হবে, সর্বনিম্নটি হচ্ছে, দারিদ্রতা।)[8]

 

ছয়

بِسْمِ اللَّهِ

যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার পূর্বে বলা।

যীলত:

ক. মানুষের সঙ্গে শয়তানের খাওয়া বা রাত যাপন থেকে হিফাযত।

জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেছেন,

«إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ، فَلَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ».

“মানুষ যখন নিজের ঘরে প্রবেশ ও খাওয়ার সময় আল্লাহর যিকির (স্মরণ) করে, তখন শয়তান স্বীয় সঙ্গীদেরকে বলে, এখানে তোমাদের জন্য রাত যাপন ও রাতের খানা কোনোটিরই সুযোগ নেই। আর যখন মানুষ আল্লাহর যিকির (স্মরণ) ছাড়া ঘরে প্রবেশ করে, তখন শয়তান তার সঙ্গীদের বলে, এখানে তোমরা রাত যাপনের জায়গা পেয়ে গেছ। আর যখন খাওয়ার সময়ও আল্লাহর যিকির না করে তখন শয়তান স্বীয় সঙ্গীদেরকে বলে তোমরা এখানে রাত যাপনের জায়গা এবং খাবার উভয়টাই পেয়ে গেছ”।[9]

ুই. প্রত্যেক কাজ বরকতপূর্ণ করা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে যে, “প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি বিসমিল্লাহ দিয়ে, অন্য বর্ণনায় এসেছে, “যিকির দ্বারা” শুরু করা না হয়, “সেটা কর্তিত হবে।” অপর বর্ণনায় এসেছে, “সেটা লেজ কাটা হবে”।[10]

িন. শয়তানের ক্ষতি থেকে হিফাযত

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তানের গুপ্তাঙ্গ ও জিন্নের চোখের মাঝের পর্দা হলো বাথরূমে যাওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া”।[11]

ভিজ্ঞতার ফসল:

খালেদ ইবনুল ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন হীরায় অবতরণ করলেন, তাকে জানালো হলো যে সাবধান, বিষ সম্পর্কে সাবধান থাকবেন, অনারবরা আপনাকে বিষপানে হত্যা করতে পারে, তিনি তখন বললেন, নিয়ে এসো, নিয়ে আসা হলে তিনি তা হাতে নিলেন, এবং বিসমিল্লাহ বলে তা পান করে নিলেন, কিন্তু বিষ তার কোনো ক্ষতি করলো না।[12] 

্মরণীয়:

উপরে বর্ণিত সবই বিসমিল্লাহর ফযীলত। কাজেই প্রত্যেক মুসলিমের কাজ হলো সকল কাজে ও সর্বাবস্থায় ‘বিসমিল্লাহ’ বলার অভ্যাস গড়ে তোলা, যাতে কাজে-কর্মে পূর্ণ বরকত হয় এবং সাথে সাথে শয়তান থেকেও হিফাযত হয়।

াত

بِسْمِ اللّهِ الَّذيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْ ءٌ فِي الْأرْضِ وَلَا فِي السّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ.

সকাল-বিকাল তিনবার পড়া

যীলত:

ক. সকল প্রকার অনিষ্ট ও আকস্মিক বিপদ থেকে রক্ষাকারী

উসমান ইবন আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল সন্ধ্যায় তিনবার নিম্নের দো‘আটি পড়বে,

بِسْمِ اللّهِ الَّذيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْ ءٌ فِي الْأرْضِ وَلَا فِي السّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ.

কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।[13] অপর বর্ণনায় রয়েছে, হঠাৎ কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না।[14]

ো‘আর অর্থ: আমি ঐ আল্লাহর নামেই (সকাল-সন্ধ্যা) করলাম, যার নামের সংস্পর্শের ফলে আসমান-জমিনের কোনো জিনিস ক্ষতি করে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজান্তা। অর্থাৎ কোনো কারণ ব্যতীত সেখানে হঠাৎ করে বিপদ আসবে না।

ভিজ্ঞতার ফল:

উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে এ হাদীসের বর্ণনাকারী আবান ইবন উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু এক সময় পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন এক ব্যক্তি, যে তার থেকে এ হাদীস শুনেছিল, তাকে দেখে বিস্ফারিত নেত্রে তার দিকে তাকিয়ে থাকে (যেন সে চোখের ভাষায় বলতে চাচ্ছিল, আপনিই তো আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীস শুনিয়েছিলেন, তাহলে আবার আপনি কেমন করে এ রোগে আক্রান্ত হলেন?) আবান রহ. লোকটিকে বললেন, তোমার কী হলো যে এভাবে তুমি তাকিয়ে আছো? কসম আল্লাহর! আমি উসমানের ওপর মিথ্যা বলি নি, আর উসমানও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা বলেন নি; কিন্তু সত্য কথা হলো, যে দিন আমি এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হই, সেদিন কোনো কারণে অত্যাধিক রাগাম্বিত হয়েছিলাম। ফলে এ দো‘আ পড়তে ভুলে গিয়েছিলাম।[15]

্মরণীয়:

উল্লিখিত ঘটনা থেকে বুঝা গেল, অতিরিক্ত ক্রোধ কিংবা ভয়-চিন্তা-হাসি-কান্না ইত্যাদির বেলায় বেশি উত্তেজিত ও আবেগপ্রবণ হওয়া মানুষের জন্য অকল্যাণ ডেকে আনে। বিশেষ করে রাগ। এসব মুহুর্তে শয়তান উপস্থিত হয় এবং মানুষের ক্ষতি করে, তাকে তার কর্তব্য কর্ম ভুলিয়ে দেয়। যেমনটি ঘটেছিল আবান এর বেলায়। অথবা সেটাকে দুর্বল করে দেয়। সুতরাং কোনো মানুষ যখন এ যিকিরগুলো বলার পরও বিপদমুক্ত হয় না তখন আশ্চর্য হয়ো না। কেননা শয়তান কোনো সুযোগ পেয়ে সেখানে ঢুকে পড়েছে।

أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّهِ التّامَاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.

সন্ধায় তিনবার এবং কোনো স্থানে অবতরণ করে একবার পড়া।

যীলত:

ক. বিচ্ছুর বিষনাশক

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! রাতে বিচ্ছুর দংশনে আমার ভীষণ কষ্ট হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে বললেন, যদি তুমি সন্ধ্যায় أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ -এ দো‘আটি পড়ে নিতে তাহলে বিচ্ছু কখনো তোমার কোনো ক্ষতি করতো না।[16]

র্থ: আমি আল্লাহর সমস্ত কালেমা দ্বারা তার সমস্ত মাখলুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

ভিজ্ঞতা:

হাদীসের বর্ণনাকারী সুহাইল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমাদের পরিবারের লোকেরা এ দো‘আ মুখস্ত করে রেখেছিলো এবং প্রতি রাতে আমল করতো। এক রাতে এক মেয়েকে বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলো; কিন্তু সে কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করলো না।[17]

ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন এ সংবাদ সত্য এবং নির্ভুল। এর সত্যতা আমরা দলীল-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাসহ জেনেছি।[18]

ুই. স্থানের সব প্রাণীর ক্ষতি থেকে হিফাযত

খাওলা বিনতে হাকিম সুলামিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে এ দো‘আ পড়বে,

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

সেখানে অবস্থানকালে কোনো বস্তু তার ক্ষতি করবে না।[1]

 

নয়

حسبي الله لا إله إلا هو عليه توكلت وهو رب العرش العظيم.

সকালে সাতবার এবং সন্ধ্যায় সাতবার পড়া।

যীলত:

ুনিয়া ও আখেরাতের চিন্তার জন্য যথেষ্ট

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সাতবার এ দো‘আ পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তার তার দুনিয়া ও আখেরাতের সমুদয় চিন্তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন।[2]

ো‘আর অর্থ: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো মা‘বুদ নেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করলাম, তিনিই মহান ‘আরশের মালিক।

 

দশ

بسم الله، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় একবার পড়া।

যীলত:

িনটি বিষয়ের জন্য বড় কার্যকর

আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এ দো‘আ পড়ে, তাকে বলা হয় অর্থাৎ ফিরিশতারা বলে, তোমার কাজ সমাধা করে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত অকল্যাণ থেকে তোমাকে রক্ষা করা হয়েছে। তোমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করা হয়েছে। আর শয়তান তার থেকে দূর হয়ে যায়।[3]

সুনান আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, এ দো‘আ পড়ার পর এক শয়তান অপর শয়তানকে বলে, কি করবে তুমি এমন লোক দিয়ে যাকে পূর্ণরূপে পথ দেখানো হয়েছে, যাকে যথেষ্ট করা হয়েছে এবং যাকে রক্ষা করা হয়েছে?[4]

ো‘আর অর্থ: আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, তাঁর ওপরই আমার সকল ভরসা। কোনো কল্যাণ পাওয়া অথবা কোনো অকল্যাণ থেকে বেঁচে থাকা একমাত্র তার হুকুমেই সম্ভব হতে পারে।

 

একাদশ

لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَلَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كلِّ شَيْ ٍ قّدِيْرٌ.

সকাল-সন্ধ্যায় দশবার, দৈনিক একশতবার বা তার চেয়ে বেশি, আর বাজারে ঢুকার সময় একবার পড়া।

যীলত:

ক. বড় হিফাযত মাধ্যম ও বিরাট সাওয়াব

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল বেলায় এ দো‘আটি দশবার পড়বে, আল্লাহ তা‘আলা থাকে একশত নেকী দান করবেন। তার একশত গুনাহ মাফ করে দিবেন, একটি গোলাম আযাদ করার সমান সাওয়াব দান করবেন এবং ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে হিফাযত করবেন। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় এ দো‘আ পড়বে, সেও এ সমস্ত পুরস্কার প্রাপ্ত হবে।[5]

অপর বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি দিনে একশত বার উক্ত দো‘আটি পড়বে সে দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সাওয়াব লাভ করবে, আর একশত নেকী অর্জন করবে। তার একশত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে; ঐ দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে হিফাযতে থাকবে। ঐ দিন সে সব চেয়ে উত্তম আমলকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি তার চেয়েও বেশি পড়ে, তবে ভিন্ন কথা, উক্ত ব্যক্তিই ইত্যাকার সকল সওয়াবের মালিক হবে।[6]

ো‘আর অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো মা‘বুদ নেই, তিনি একক, তার কোনো অংশীদার নেই, রাজত্ব এবং প্রশংসা তাঁরই, তিনি সর্ব বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান।

ুই. বাজারে প্রবেশকালে আল্লাহর সঙ্গে লক্ষ লক্ষ নেকীর ব্যবসা!

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে নিম্নের এ দো‘আটি পড়বে,

لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَلَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الحَمدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يمُوْتُ بِيَدِهِ الخَيْرَُ وَهُوَ عَلَى كل شَيْ ءٍ قَدِيْرٌ.

আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য দশ লক্ষ নেকী লিখে দিবেন। তার দশ লক্ষ গুনাহ মুছে দিবেন এবং তার দশলক্ষ মর্যাদা উন্নত করে দিবেন।

অপর এক বর্ণনায় আছে তার জন্য জান্নাতে একটি মহল তৈরি করে দিবেন।[7]

ো‘আর অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব এবং ক্ষমতা তাঁরই, তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন তিনি চিরঞ্জীব, তার মৃত্যু নেই, সকল কল্যাণ তার হাতে, তিনি সর্ব বিষয় ক্ষমতাবান।

হাদীসের বর্ণনাকারী হাকেম রহ. বলেন, আমি খোরাসানে গিয়েছিলাম। তখন সেখানকার দায়িত্বশীল কুতাইবা ইবন মুসলিমের দরবারে হাযির হয়ে বললাম, আপনার জন্য হাদিয়া নিয়ে এসেছি এবং তাকে এ হাদীস শুনালাম। এরপর থেকে তিনি দৈনিক নিজ বাহনে আরোহন করে বাজারে যেতেন এবং এ দো‘আ পড়ে ফিরে আসতেন।

প্রিয় পাঠক! এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে, এ ছোট আমলের জন্য এতো বিরাট পুরস্কার! কারণ, মহান আল্লাহ তা‘আলা সর্বাধিক দাতা। তাঁর দান সর্বব্যাপী। এটা তার তার পক্ষ থেকে ঘোষণা যে, বাজারে গিয়ে তাঁর সাথে ব্যবসা করা অন্যের সঙ্গে ব্যবসা করার তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক, যাতে বান্দা দুনিয়ার ব্যবসায় ডুবে আপন প্রভূকে ভুলে না যায়। শয়তান প্রাণান্ত চেষ্টা করে বাজারের লোকদের ওপর নিজের কর্তৃত্ব চালানোর জন্য। যে কারণে যত রকম মিথ্যা, ধোকাবাজি, প্রতারণা, খিয়ানত হৈ হুল্লোড় -সব বাজারেই হয়।

আবু উসমান রহ. সালমান রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তোমার পক্ষে যদি সম্ভব হয়, তাহলে বাজারে সর্বাগ্রে প্রবেশকারী এবং সর্বশেষ প্রত্যাবর্তনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। কেননা, বাজারে শয়তানের যুদ্ধক্ষেত্র সেখানে সে পতাকা স্থাপন করে।[8]

কায়েস ইবন আবু গারযা রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে তাশরীফ আনলেন। আমরা দালালী করতাম। তিনি এসে বললেন, হে ব্যবসায়ী সমপ্রদায়! ব্যবসায়ে শয়তান হাযির হয় ও গুনাহ হয়ে থাকে। কাজেই ব্যবসা করার সঙ্গে সঙ্গে তোমরা বিশেষভাবে সাদকাও কর।[9]

 

বারো

أعُوْذُ بِاللَّهِ العَظِيْمِ وَبِوَجْهِهِ الكَرِيْمِ وَسُلْطَانِهِ القَدِيْمِ مِنَ الشَيْطَانِ الرَّجِيْمِ.

মসজিদে প্রবেশের সময় একবার পড়া।

যীলত:

আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ কালে এ দো‘আ পড়তেন-

أعُوْذُ بِاللَّهِ العَظِيْمِ وَبِوَجْهِهِ الكَرِيْمِ وَسُلْطَانِهِ القَدِيْمِ مِنَ الشَيْطَانِ الرَّجِيْمِ.

যখন এ দো‘আ পড়া হয় তখন শয়তান বলে, সে সারা দিনের জন্য আমার হাত থেকে নিরাপদ হয়ে গেলো।[10]

ো‘আর অর্থ: আমি মহান আল্লাহ, তাঁর দয়াময় সত্তা ও তার চিরস্থায়ী বাদশাহীর আশ্রয় গ্রহণ করছি বিতাড়িত শয়তান থেকে।


[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৮

[2]  যাদুল মা‘আদ ২/২৭৬

[3]  তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪২২

[4]  সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৫০৯৫

[5]  মুসনাদে আহমদ ৪/৬০

[6]  সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৯১

[7] তিরমিযী, হাদীস নং ৩৪২৪

[8]  সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৫১

[9]  তিরমিযী, হাদীস নং ১২০৮

[10] সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬৬


[1]  তিরমিযী ৩/১৮৩

[2]  জামেউল উসুল ৪৯১/৪২৯।

[3]  তিরমিযী ২/২০৬

[4] সহীহ বুখারী ১১/১৯৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৪

[5] ওয়াবিলুস সাইব লি ইবনিল কাইয়্যেম (পৃ: ৯৮)

[6] ওয়াবিলুস সাইব লি ইবনিল কায়্যিম (পৃ. ৯৮)

[7] মুসতাদরাকে হাকেম (১/৫৪২) এবং এর সনদকে সহীহ বলেছেন।

[8] সহীহ আত-তিরমিযী, ৩/১৮৬। আলবানী বলেন, তা মাকতু‘।

[9] মুসলিম, হাদীস নং ২০১৮।

[10] তিরমিযী; আর আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুত তিরমিযী: ৪৯৬।

[11] অর্থাৎ বরকতহীন হবে, হাদীসটিকে একদল আলেম বিশুদ্ধ বলেছেন, যেমন ইবনুস সালাহ, নাওয়াওয়ী তাঁর আযকার গ্রন্থে। ইবন বায রহ .বলেন, হাদীসটি তার শাওয়াহেদ সহ হাসান হাদীস।

[12] বাইহাকী, আবু নু‘আইম, তাবরানী ও ইবন সা‘দ সহীহ সনদে তা বর্ণনা করেন, দেখুন, ইবন হাজার, তাহযীবুত তাহযীব, খ. ৩, পৃ. ১২৫।

[13]  তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৮৫

[14]  সহীহ সুনান আবি দাউদ, ৫০৮৮, ৫০৮৯।

[15] সহীহ সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৪৪  

[16]  সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭০৯

[17]  তিরমিযী ৩/১৮৭

[18]  ফতুহাতুর রববানিয়া ৩/৯৪