মূল:নারীর হজ ও উমরাহ

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা কা‘বা শরীফ পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য রাখেন তাদের ওপর হজ ফরয করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে এভাবে তাগিদ দিয়ে বলেছেন:

﴿وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ ٱلۡعَٰلَمِينَ﴾ [ال عمران: ٩٧]

“মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য এবং যে কেউ প্রত্যাখ্যান করল সে জেনে রাখুক, নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৯৭]

উপরোক্ত আয়াতে হজকে আল্লাহর অধিকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা আল-হজে আল্লাহ তা‘আলা হজের মূলে কী এবং তা কখন শুরু হয় তা স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন:

﴿وَأَذِّن فِي ٱلنَّاسِ بِٱلۡحَجِّ يَأۡتُوكَ رِجَالٗا وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٖ يَأۡتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٖ ٢٧ لِّيَشۡهَدُواْ مَنَٰفِعَ لَهُمۡ وَيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡلُومَٰتٍ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلۡأَنۡعَٰمِۖ٢٨﴾ [الحج: ٢٧،  ٢٨]

“এবং মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করে দিন, ওরা আপনার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে ও সব ধরনের ক্ষীণকায় উটের পিঠে, এরা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যা রিযিক হিসেবে দান করেছেন তার ওপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। তারপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ, অভাবগ্রস্তকে খাওয়াও।’ [সূরা আল-হাজ: ২৭-২৮]

উপরোক্ত নির্দেশটি মহান আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে দিয়েছিলেন। তিনি সে নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছিলেন। আয়াতের তাফসীরে সাহাবী ও তাবেঈদের থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবরাহীম আলাইহিসসালাম এ নির্দেশ পাওয়ার পর বলেছিলেন, হে আমার প্রভু! আমার ঘোষণা তাদের কানে পৌঁছাবে কে? মহান আল্লাহ তখন সেটা পৌঁছানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন।[1]

হজ মুসলিমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর ইবাদত। এটি সামর্থ্যবানদের জন্য জীবনে একবারই ফরয। বাকি সময়ে সেটি তার জন্য নফল হিসেবে থাকে।

বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে হজের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে তাগিদ করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোনো কাজটি সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা”। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: “আল্লাহর পথে জিহাদ করা”। জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন: “তারপর হচ্ছে মাবরুর হজ।[2] হজে মাবরুর বলতে এমন হজকে বুঝায় যে হজে ত্রুটি হয় নি বা যা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “এক উমরাহ আদায় করার পর আবার উমরাহ আদায় করলে তা মাঝখানের সময়টুকুর জন্য কাফ্ফারা হয়ে যায়। আর মাবরুর হজের প্রতিদানই হচ্ছে জান্নাত”।[3]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “যে ব্যক্তি এমনভাবে হজ করবে যে, তাতে সে অশ্লীল কথা বলে না এবং কোনো গুনাহের কাজ করে না, সে সকল গুনাহ থেকে মা তাকে প্রসব করার দিনের মত অবস্থায় ফিরে যায়।”[4]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, যে ব্যক্তি এ ঘরে আসল, তাতে সে অশ্লীল কথা বলে না এবং কোনো গুনাহের কাজ করে না, সে সকল গুনাহ থেকে মা তাকে প্রসব করার দিনের মত অবস্থায় ফিরে যায়।”[5] হাদীসটি একই সাথে হজ এবং উমরাকে অন্তর্ভূক্ত করে।[6]

এ হচ্ছে হজের কিছু গুরুত্ব ও ফযীলত। যা নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাছাড়া নারীদের জন্য হজের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।


[1] মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৪২১, ৬০১। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত।

[2] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫১৯সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৪।

[3] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩২৭৬।

[4] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩২৭৮।

[5] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৮৩।

[6] দেখুন: ফতহুল বারি, ৩/৩৮২।

[7] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫২০।