মূল:নারীর হজ ও উমরাহ

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

অন্যান্য এবাদতের মতো হজেরও কিছু শর্ত রয়েছে, তন্মধ্যে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা না পাওয়া গেলে হজ শুদ্ধই হবে না। যেমন,

মুসলিম হওয়া।

বিবেকবান হওয়া।

এ ছাড়া আরো কিছু শর্ত রয়েছে যা হজ ফরয হওয়ার জন্য শর্ত। শুদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। যেমন,

বালেগ হওয়া। যদি কোনো শিশু হজ করে তবে তা তার নিজের ফরয হজ হিসেবে আদায় হবে না।

স্বাধীন হওয়া। দাসের ওপর হজ করা ফরয নয়। কিন্তু যদি কোনো দাস হজ করে তবে তা শুদ্ধ হবে। এ শর্তগুলোর ক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান।

মক্কায় যাওয়ার ক্ষমতা থাকা।

এ শর্তের ব্যাপারে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে তারতম্য রয়েছে। পুরুষের জন্য এ সক্ষমতা দু’ধরনের:

এক. আর্থিক সক্ষমতা।

দুই. শারীরিক সক্ষমতা।

যদি কারও আর্থিক ও শারীরিক ক্ষমতা থাকে তবে সে নিজেই হজ করতে হবে। আর যদি আর্থিক ক্ষমতা থাকে কিন্তু শারীরিক ক্ষমতা না থাকে তবে কাউকে দিয়ে হজ করাতে হবে। আর যদি শুধু শারীরিক ক্ষমতা আছে কিন্তু আর্থিক ক্ষমতা নেই তাহলে তার ওপর হজ ফরয নয়। কিন্তু তারপরও যদি সে তা করে তা গ্রহণযোগ্য হবে।

নারীদের জন্য সক্ষমতা তিন ধরনের:

এক. আর্থিক সক্ষমতা।

দুই. শারীরিক সক্ষমতা।

তিন. মাহরাম সাথে থাকা।

সুতরাং যদি কোনো মহিলা আর্থিক ও শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন হয় এবং মাহরাম পাওয়া যায় তবে তার ওপর হজ ফরয হবে।

কিন্তু যদি শুধু আর্থিক ক্ষমতা থাকে তবে মহিলার ওপর হজ ফরয হবে, তিনি নিজে না গেলে কাউকে তার পরিবর্তে হজে পাঠাতে হবে।

আর যদি শুধু শারীরিক ক্ষমতা থাকে তবে তার জন্য হজ ফরয নয়। কিন্তু যদি তিনি কোনভাবে হজে গমন করেন তবে তার হজ হয়ে যাবে। মুহরিম সাথে না থাকলে সেজন্য গুনাহগার হবে।

আর্থিক সংগতি বলতে কী বুঝায়? তার পরিমাণ কত? যদি কেউ ঋণ পরিশোধ করা, যাদের খাবার দেওয়া তার ওপর ওয়াজিব তাদের খাবার দেওয়া, নিজের অত্যাবশ্যক সামগ্রী যেমন, খাবার, পানীয়, পরিধেয়, বাসস্থান ও এতদসংক্রান্ত অতি প্রয়োজনীয় বস্তু যেমন বাহন, বইপত্র ইত্যাদির বাইরে হজে যাওয়া আসা করা এবং সেখানে খরচ করার মত সম্পদ থাকে তবে সে অবশ্যই হজের জন্য ক্ষমতাবান। তাকে হজ করতে হবে। আর এটাই শরী‘আতের দৃষ্টিতে আর্থিক সংগতি ধরা হবে। এর পরিমাণ সময়, কাল, অবস্থা ও ব্যক্তির ভিন্ন হওয়া সাপেক্ষে ভিন্ন ভিন্ন হতে বাধ্য।