রাসূলের একাধিক বিবাহ

মূল:নারীর হজ ও উমরাহ

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

এক. হজ শুরু করার আগে আপনাকে কয়েকটি কাজ করতে হবে:

স্বামীর অনুমতি:

(ক) যদি আপনার হজটি ফরয হজ হয়ে থাকে তবে স্বামীর অনুমতি নেওয়া আপনার জন্য মুস্তাহাব। যদি স্বামী অনুমতি দেন তবে ভালো। আর যদি অনুমতি না দেন তারপরও যদি আপনি মুহরিম সাথী পান তবে আপনাকে হজ করতে হবে। কোনো স্বামীর জন্য আপন স্ত্রীকে ফরয হজ আদায় করতে বাধা দেওয়া উচিৎ হবে না। হাঁ, এ ব্যাপারে স্ত্রীর নিরাপত্তা ও অন্যান্য যাবতীয় শর্তাদি পূরণ হয়েছে কি না তা দেখাও স্বামীর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। কারণ, সক্ষম হলেই দেরি না করে হজ আদায় করে নেওয়া উচিৎ। নচেৎ যদি বাধা দেওয়ার কারণে স্ত্রী কোনো কারণে পরবর্তীতে অপারগ হয়ে পড়ে তবে স্বামী সহ তারা উভয়ই গুনাহগার হবে।

আর যদি আপনার হজটি নফল হজ হয়ে থাকে তবে স্বামীর অনুমতি নেওয়া আপনার জন্য ফরয। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত আপনি হজে যেতে পারবেন না। অনুরূপভাবে, স্বামীও আপনাকে নফল হজে গমনের ক্ষেত্রে তার অধিকারের কথা বিবেচনায় রেখে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

আর যদি কোনো মহিলা স্বামীর মৃত্যু-জনিত ইদ্দত পালন অবস্থায় থাকে। তাহলে সে মহিলা ইদ্দতের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত হজে যেতে পারবে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ إِذَا طَلَّقۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحۡصُواْ ٱلۡعِدَّةَۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ رَبَّكُمۡۖ لَا تُخۡرِجُوهُنَّ مِنۢ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخۡرُجۡنَ﴾ [الطلاق: ١]

“হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রী গণকে তালাক দিতে ইচ্ছে কর তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং তোমরা ইদ্দতের হিসেব রেখো এবং তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয়।” [সূরা আত-ত্বালাক, আয়াত: ১]

(খ) কোনো পিতা বা মাতা কেউই তাদের মেয়ে সন্তানকে ফরয হজে গমন করতে বাধা দেওয়ার অধিকার রাখে না। যদি কোনো মেয়ে হজে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে এবং মাহরাম পায় তখন তার জন্য পিতা-মাতার আনুগত্যের দোহাই দিয়ে হজে যাওয়া থেকে বিরত থাকা বৈধ নয়।

মাহরাম থাকা:

মহিলাদের ওপর হজ ফরয হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, মাহরাম থাকা। কেননা কোনো মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের একাকী সফর করা জায়েয নয়। এ ব্যাপারে যুবা-বৃদ্ধা, সুন্দরী-কুশ্রী, চাই সে সফর উড়োজাহাজে হোক অথবা গাড়ি-রেলগাড়ি যেটাই হোক সর্বাবস্থায় মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,

«لا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم، ولا يدخل عليها رجل إلا ومعها محرم، فقال رجل يا رسول الله: إني أريد أن أخرج في جيش كذا وكذا، وامرأتي تريد الحج ؟ فقال: اخرج معها».

“কোনো মহিলা মাহরাম ছাড়া যেন সফর না করে, অনুরূপভাবে কোনো মাহরাম এর উপস্থিতি ছাড়া কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার ঘরে প্রবেশ না করে” এ কথা শোনার পর এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক যুদ্ধে যেতে চাই অথচ আমার স্ত্রী হজে যেতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি তার সাথে বের হও”।[1]

 

খাটি তাওবা:

তাওবাহর গুরুত্ব এ থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলা কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ ٱللَّهُ مِنَ ٱلۡمُتَّقِينَ﴾ [المائ‍دة: ٢٧]

“আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন”। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ২৭]

আর যে ব্যক্তি বারবার কোনো গুনাহ করে সে তাকওয়া থেকে দূরে রয়েছে। সুতরাং এ গুরুত্বপূর্ণ সফরের পূর্বে অবশ্যই খাটি তাওবা করে নেওয়া উচিৎ এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা দরকার। মহান আল্লাহ কোনো বান্দার তাওবায় এতই খুশি হোন যে, এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উদাহরণের মাধ্যমে পেশ করেছেন। তিনি বলেন,

«لله أشد فرحاً بتوبة عبده، حين يتوب إليه من أحدكم كان على راحلته بأرض فلاة فانفلتت منه وعليها طعامه وشرابه، فأيس منها فأتى شجرة فاضطجع في ظلها، فبينما هو كذلك، فإذا هو بها قائمة عنده، فأخذ بخطامها، ثم قال من شدة الفرح: اللهم أنت عبدي وأنا ربك، أخطأ من شدة الفرح».

“কোনো বান্দা যখন তাওবা করে তখন আল্লাহ তার তাওবায় এতই খুশি হোন যেমন তোমাদের কেউ শুষ্ক জনমানবহীন মরুভূমিতে ছিল। এমন সময় তার বাহনটি তার কাছ থেকে পালিয়ে গেল অথচ সে বাহনের ওপর তার খাবার ও পানীয় রয়েছে। সে নিরাশ হয়ে এক গাছের নিচে শুয়ে পড়ল। তার মনে হচ্ছে যে, মৃত্যু তার খুবই নিকটে। এমতাবস্থায় হঠাৎ করে সে দেখল যে, তার বাহনটি তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তখন সে বাহনটির লাগাম ধরে খুশির চোটে ভুল করে বলল: হে আল্লাহ তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু।”[2]

আর তাওবাহ তখনই পূর্ণ হবে যখন যাবতীয় হারাম কার্যাদী থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা যায়। চাই তা কথার মাধ্যমে হোক বা কাজের মাধ্যমে হোক যেমন, গিবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, বেপর্দা, ও হারাম গান-বাদ্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

খলাস:

তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে কোনো এবাদত না হলে যেমন তা কবুল হয় না তেমনিভাবে এখলাস না থাকলেও সেটা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। একমাত্র মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোনো কাজ না হলে আল্লাহ সেটা গ্রহণ করেন না। সুতরাং যে কেউ লোক দেখানো অথবা শোনানোর জন্য, হাজী সাহেবা বলানোর জন্য হজ করতে যাবে সে সওয়াবের বদলে তার জীবনের সমস্ত সওয়াব শেষ করে আসবে। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ বলবেন:

اذهبوا إلى الذين كنتم تراءون)

“তাদের কাছে যাও যাদেরকে দেখানো বা শোনানোর জন্য তোমরা আমল করেছিলে”।[3]

অসিয়ত করা।

এ সফরে যাওয়ার আগে আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অসিয়ত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«ما حق امرئ مسلم له شيء يوصي فيه يبيت ليلتين إلا ووصيته مكتوبة عنده»

“কোনো মুসলিমের যদি কোনো কিছু অসিয়ত করার থাকে তার জন্য এটা উচিৎ হবে না যে, সে অসিয়ত না করে দু’টি রাত যাপন করে”।[4]

আলিমগণ বলেন, যদি মানুষের হকের ব্যাপারে কোনো অসিয়ত থাকে, যেমন কারো ঋণ, আমানত অথবা কোনো ফরয হক যা অসিয়ত ছাড়া সাব্যস্ত করার উপায় নেই এমতাবস্থায় অসিয়ত করে তা লিখে রাখাও উচিৎ। আর যদি কারো জন্যে সম্পদ থেকে নফল অসিয়ত করতে চায় তাহলে এক তৃতীয়াংশের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।

হজের মাসলা-মাসায়েল শিক্ষা করা.

হজের হুকুম আহকাম জানা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অথচ অধিকাংশ মানুষ হজের নিয়মাবলি না জেনে বা ভাসা ভাসা ধারণা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। ফলে অনেক সময় দেখা যায় যে হজের জন্য এতকিছু বিসর্জন দিল তার সে হজ আশানুরূপ হয়ে উঠে না। অন্যায়-ও শরী‘আত গর্হিত কাজে নিজেরা জড়িয়ে পড়ে। আবার অনেকে বিদ‘আতও করে বসে। হজ করা যেমন ফরয, হজের নিয়ম-নীতি জানাও তেমনি ফরয। কারণ, ফকীহগণের সুনির্দিষ্ট একটি “ধারা” হলো: “যা না হলে ফরয আদায় হয় না তা করাও ফরয।”

সুতরাং প্রত্যেক হাজী সাহেবারই উচিৎ হজের মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা। চাই সেটা বিজ্ঞ আলিমদের জিজ্ঞাসা করেই হোক বা গ্রহণযোগ্য হজের কিতাব পাঠ করার মাধ্যমেই হোক অথবা হজ সংক্রান্ত কোনো ক্যাসেট বা সিডি দেখার মাধ্যমেই হোক।

টিকা গ্রহণ করা:

মুসলিম নর-নারী সবারই উচিৎ ছোট-বড় যাবতীয় বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে কাজ করা। এ তাওয়াক্কুলের পর্যায়ে পড়ে এতদসংক্রান্ত বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা। উপায়-উপকরণ গ্রহণের প্রথমেই রয়েছে, টিকা গ্রহণ করা। কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে মানুষের সমাগম হয়। বিভিন্ন ধরনের মহামারির উপদ্রব হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করার সাথে সাথে তাকে মারাত্মক জ্বর-রোগ-ব্যামো ইত্যাদির জন্য টিকা নেওয়া উচিৎ।

দুই. হজের সফরে আপনাকে কয়েকটি জিনিস সাথে নিতে হবে:

হজের সফরে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জিনিস সাথে নিতে হতে পারে, যা আপনার কাজে আসবে। যেমন,

এক খণ্ডরআন শরীফ:

যাতে আপনি গাড়ি, কিংবা বিমান অথবা খীমা যেখানে যে অবস্থায় থাকুন না কেন নিজের সময়টুকু কাজে লাগাতে পারেন। এ গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী সফরটুকুকে কাজে লাগানোর সবচেয়ে উত্তম ও সঠিক মাধ্যম হলো, আল্লাহর কোরআনের সাথে সময়টুকু কাটানো। চিন্তা করে দেখুন, এক বর্ণে দশ নেকি থেকে শুরু করে সাত শত নেকী পর্যন্ত।

অনেকে বাজারে প্রচলিত ওজিফা নিয়ে থাকে। এ সমস্ত অযীফা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরী‘আত-বিরুদ্ধ কথা ও কাজে ভরপুর। এগুলো সাথে নেওয়া যেমন গর্হিত কাজ তেমনি এগুলো পড়ে সময় নষ্ট করাও খারাপ কাজ। এগুলোর পরিবর্তে নিজেকে পবিত্র কোরআনের সাথে রাখুন।

ব্যাটারি সমেত ছোট একটি ক্যাসেট প্লেয়ার:

কারণ যখন আপনার কুরআন পড়তে অসুবিধা হবে তখন আপনি কারো কুরআন পড়া শুনতে পারেন। কুরআন শুনলেও সওয়াব হয়। সুতরাং আপনার প্রতিটা মুহূর্তে কোনো না কোনো ভালো কাজে ব্যয় করার জন্য সচেষ্ট থাকুন। তাছাড়া কোনো হজ বা দীনি কোনো ভালো আলেমের ক্যাসেটও শুনতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু দীনি কিতাব:

হজের আহকাম সংবলিত ভালো ও গ্রহণযোগ্য কোনো গ্রন্থ আপনার সাথে রাখার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে শাইখ আব্দুল আযীয ইবন বায ও শায়ইখ মুহাম্মদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন রহ.-এর গ্রন্থসমূহ থেকে আপনি হজের সঠিক দিক-নির্দেশনা নিতে পারেন।

স্যানেটারী ন্যাপকিন ও গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ সাথে নেয়া:

বিশেষ করে যাদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে, তাদের উচিৎ যে ঔষধ তাদের সবসময় সেবন করতে হয় তা সাথে নিয়ে নেওয়া। যেমন, ডায়াবেটিস, হাইপার-টেনশন, রক্তচাপ, মাথা ব্যথা ইত্যাদির ঔষধ সাথে নিয়ে নেওয়া জরুরি।

তিন. হজের সফরে যাওয়ার সময় আপনার বিশেষ করণীয়

হজে বের হওয়ার পূর্ব ক্ষণে দু’রাকাআত সালাত পড়ে এ সালাতের অসীলা দিয়ে দো‘আ করতে পারেন যাতে আল্লাহ আপনার যাবতীয় কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

হজে বের হওয়ার সময় সফরের শুরুতে যানবাহনে উঠে সফরের দো‘আ পড়া। সফরের দো‘আ হচ্ছে:

«الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر،﴿سُبْحانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ * وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ﴾ “اَللّهُمَّ إنَّا نَسْأَلُكَ فِيْ سَفَرِنَا هذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضى، اللَّهٌمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَه، اللَّهُمَّ أنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالخَلِيْفَةِ فِي الأهْلِ، اللَّهُمَّ إنِّي أعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمَنْظَرْ وَسُوْءِ المُنْقَلَبِ فِي المَالِ وَالأهْلِ»

উচ্চারণ: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা ওমা কুন্না লাহূ মুকরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রাবিবনা লামুনকালিবূন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হাযাল বিররা ওয়াত্ তাক্ওয়া, ওয়া মিনাল ‘আমালি মা তারদ্বা, আল্লাহুম্মা হাওয়িন ‘আলাইনা সাফারানা হাযা ওয়াতওয়ে ‘আন্না বু‘দাহু, আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফারে ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘উযু বিকা মিন ওয়া‘সায়িস সাফারে, ওয়া কাআবাতিল মানযারি ওয়া সূওয়িল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহল”।

“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। কতই না পবিত্র সে মহান সত্তা যিনি আমাদের জন্য এটাকে বশীভূত করে দিয়েছেন যদিও আমরা তা বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না, আর আমরা অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব আমাদের প্রতিপালকের নিকট।” হে আল্লাহ! আমাদের এ সফরে আমরা আপনার নিকট নেককাজ আর তাকওয়া এবং যে কাজে আপনি সন্তুষ্ট এমন কাজ প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এ সফরকে সহজসাধ্য করে দিন এবং এর দূরত্বকে আমাদের জন্য হ্রাস করে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরে আমাদের সাথী এবং গৃহে রেখে আসা পরিবার পরিজনের খলিফা বা স্থলাভিষিক্ত (তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী)। হে আল্লাহ! আমরা আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের ক্লেশ হতে এবং অবাঞ্ছিত কষ্টদায়ক দৃশ্য দর্শন হতে এবং সফর হতে প্রত্যাবর্তনকালে সম্পদ ও পরিজনের ক্ষয়ক্ষতির অনিষ্টকর দৃশ্য দর্শন হতে।[1]


[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৯২।


[1] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৬৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৪১।

[2] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৫০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৪৭

[3] মুসনাদে আহমদ: ৫/৪২৯।

[4] সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৫৮৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬২৭