কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

হাদীস— « مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِى رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِى أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ ».  “যে ব্যক্তি তার রিযিকের মধ্যে প্রসস্থতা এবং হায়াতের মধ্যে দীর্ঘতাকে পছন্দ করে”

প্রশ্ন: রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণী—« مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِى رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِى أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ ». “যে ব্যক্তি তার রিযিকের মধ্যে প্রসস্থতা এবং হায়াতের মধ্যে দীর্ঘতাকে পছন্দ করে, সে যেন আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখে।”[1] এর অর্থ কি?। হাদীসটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এ হাদীসের অর্থ কি এমন যে, মানুষ যখন আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখে তখন তার এক রকম বয়স হবে এবং যখন আত্মীয়তা বজায় না রাখে তখন তার অন্য রকম বয়স হবে?

উত্তর: এ হাদীসের অর্থ এমন নয় যে, মানুষের বয়স দুই ধরনের হবে। অর্থাৎ, আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখলে এক রকম বয়স হবে এবং আত্মীয়তা বজায় না রাখলে অন্য রকম বয়স। মানুষের বয়স এক ও অভিন্ন এবং পরিমাণও এক। আল্লাহ তা‘আলা যাকে তাওফীক দেন সে আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখেন আর যার ভাগ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা রাখে তিনি ছিন্ন করেন। এটিই হলো বাস্তবতা। তবে হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্য হলো, যে আমলে কল্যাণ রয়েছে তার প্রতি উম্মাতকে উৎসাহ প্রদান করা। যেমন, আমরা বলে থাকি, যে ব্যক্তি এ কথা পছন্দ করে যে, তার সন্তান হোক, সে যেন বিবাহ করে। অথচ বিবাহ ভাগ্যের ব্যাপার এবং সন্তান হওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। আল্লাহ তা‘আলা যখন তোমার সন্তানের ইচ্ছা করবেন তখন তিনি তোমার বিবাহেরও ইচ্ছা করবেন। আর তা সত্ত্বেও বিবাহ ও সন্তান উভয়টি ভাগ্যের লিখন। অনুরূপভাবে মানুষের রিযিক এবং আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি গোড়া থেকেই নির্ধারিত ও মীমাংসিত। কিন্তু বিষয়টি তুমি জানো না। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে বিষয়টি সম্পর্কে উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি বলছেন যে, যখন তুমি আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখবে তখন আল্লাহ তা‘আলা তোমার রিযিক বৃদ্ধি করবেন, তোমার হায়াত বাড়িয়ে দেবেন ইত্যাদি। অন্যথায় সবকিছুই মীমাংসিত। তারপর মনে রাখতে হবে রিযিক ও হায়াত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি আপেক্ষিক। অন্যথায় আমরা অনেক মানুষকে বাস্তবে দেখতে পাই সে আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখা সত্বেও এবং তার রিযিক বাড়িয়ে দেওয়া হলেও কিন্তু সে অল্প বয়সে মারা যায়। এ ব্যক্তি সম্পর্কে আমরা বলব, লোকটি যদি আত্মীয়তা সম্পর্ক রক্ষণাকারী না হতো তা হলে সে আরো আগেই মারা যেত। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তার ভাগ্যে এ কথা পূর্বেই লিপিবদ্ধ করেছেন যে, সে আত্মীয়তা সম্পর্কে বজায় রাখবে এবং অমুক সময় তার জীবনের ইতি ঘটবে।

শাইখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন রহ.

[1] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৬৮৮

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন