কুরআন ও সুন্নাহের ওপর আরোপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জাওয়াব

অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।। সম্পাদক: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

প্রশ্ন: আল্লাহর তা‘আলার বাণী: ﴿وَقِيلَ ٱلۡيَوۡمَ نَنسَىٰكُمۡ كَمَا نَسِيتُمۡ لِقَآءَ يَوۡمِكُمۡ هَٰذَا ٣٤﴾ [الجاثية : ٣٤] “আর বলা হবে, ‘আজ আমি তোমাদেরকে ছেড়ে যাব যেমন তোমরা তোমাদের এ দিনের সাক্ষাতের বিষয়টি ছেড়ে গিয়েছিলে।” [সূরা আল-জাসিয়াহ, আয়াত: ৩৪] আল্লাহ তা‘আলার বাণী:﴿قَالَ عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَٰبٖۖ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى ٥٢﴾ [طه: ٥٢] ‘‘এর জ্ঞান আমার রবের নিকট কিতাবে আছে। আমার রব বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না’’। [সূরা তা-হা, আয়াত: ৫২]

আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামী কাফিরদের সম্বোধন করে বলবেন,  ﴿وَقِيلَ ٱلۡيَوۡمَ نَنسَىٰكُمۡ كَمَا نَسِيتُمۡ لِقَآءَ يَوۡمِكُمۡ هَٰذَا ٣٤﴾ [الجاثية : ٣٤] “আর বলা হবে, ‘আজ আমি তোমাদেরকে ছেড়ে যাব যেমন তোমরা তোমাদের এ দিনের সাক্ষাতের বিষয়টি ছেড়ে গিয়েছিলে।” [সূরা আল-জাসিয়াহ, আয়াত: ৩৪]

আর আল্লাহ তা‘আলা অপর একটি আয়াতে বলেন, ﴿قَالَ عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَٰبٖۖ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى ٥٢﴾ [طه: ٥٢] “এর জ্ঞান আমার রবের নিকট কিতাবে আছে। আমার রব বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না।”   [সূরা তা-হা, আয়াত: ৫২] উভয় আয়াতের মাঝে কিভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে?

উত্তর: উভয় আয়াতের মধ্যে ভুলে যাওয়ার অর্থ ভিন্ন। আয়াতে যে ভুলে যাওয়াকে আল্লাহ তা‘আলা না করেছেন সে ভুলে যাওয়ার অর্থ অলসতা ও অন্যমনস্ক হওয়া। আর আল্লাহ তা‘আলা এ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। কারণ, এটি দুর্বলতা ও দোষ। যা আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

আর আল্লাহর এ—﴿نَسُواْ ٱللَّهَ فَأَنسَىٰهُمۡ أَنفُسَهُمۡۚ ١٩﴾ [الحشر: ١٩] “যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল ফলে আল্লাহও তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছিলেন;” [সূরা আল-হাসর, আয়াত: ১৯] -বাণীতে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত কৃত ভুলে যাওয়ার অর্থ হলো, তাদের গোমরাহীতে ছেড়ে দেওয়া এবং তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। এ শব্দটি এখানে ‘মোকাবেলা ও রূপক’ অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে। কারণ, তারা যখন তার আদেশসমূহ ছেড়ে দেয় এবং আল্লাহর দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আল্লাহও তাদের ছেড়ে দেন এবং তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। ভুলে যাওয়া শব্দটি একাধিক অর্থ সম্বলিত শব্দ। প্রতিটি স্থানে তার ব্যবহার অনুযায়ী এবং অভিধান অনুযায়ী অর্থ হবে। এ শব্দটি আল্লাহ ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের বিদ্রুপকারীদের বিদ্রূপের এবং ঠাট্টা-কারীদের ঠাট্টার জাওয়াব দেওয়ার মতো। এ গুলো সবই বদলা ও রূপক অর্থের অধ্যায়ের শব্দ। আর তাদের এ ধরনের শাস্তি হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ইনসাফ ও পরিপূর্ণতা। আল্লাহ তা‘আলাই তাওফীক দেওয়ার একমাত্র অভিভাবক।

শাইখ সালেহ আল-ফাওযান

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন