A Reply to Christian Missionary 3

আর তখন কিন্তু ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্মও হয়নি। কথাগুলোকে যদি আমরা প্রশ্নোত্তর-আকারে সাজাই তাহলে কীরকম দাঁড়ায় দেখা যাক—

ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সন্তানের জন্য কখন প্রার্থনা করলেন?

যখন তিনি সন্তানহীন ছিলেন।

আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে যখন তাকে একজন পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দেন, সে কি প্রথম সন্তান না দ্বিতীয়?

প্রথম সন্তান।

ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রথম সন্তানের নাম কী?

ইসমাঈল আলাইহিস সালাম।

আয়াতে কোন সন্তানকে কুরবানী করার কথা বলা আছে?

দোয়া কবুলের পর সুসংবাদ-প্রাপ্ত সন্তানকে।

সেই সন্তান কে ছিলেন?

ইসমাঈল আলাইহিস সালাম।

সুতরাং, এখান থেকে এটি প্রমাণিত হলো যে, আয়াতে উল্লিখিত সন্তান ইসমাঈল আলাইহিস সালাম, ইসহাক আলাইহিস সালাম নয়।

এতটুকু বলে সাজিদ থামল। আমাদের দুজনের কেউ কোনো কথা বলছি না দেখে সে আবার বলতে শুরু করল—‘এবার তাহলে মিশনারিদের লজিকে আসা যাক। তারা বলছে—কুরআন প্রথমে একজন পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছে; কিন্তু কারও নাম উল্লেখ করেনি। কিছুদূর এসে কুরআন আবারও সুসংবাদসহ ইসহাক আলাইহিস সালামের নাম উল্লেখ করেছে। এখান থেকে তারা ধরে নিচ্ছে যে, কুরবানী করতে নিয়ে যাওয়া পুত্র ইসহাক ছিলেন, ইসমাঈল নয়; কিন্তু ইতিপূর্বে আমরা এই আয়াতগুলো থেকে এটা প্রমাণ করে দেখিয়েছি যে, এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট ইসমাঈল আলাইহিস সালামের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইসহাক আলাইহিস সালামের নয়।

যদি তাদের দাবি মেনেও নিই, তাহলে ব্যাপারটি কেমন দাঁড়ায়? ধরে নিই যে এখানে ইসমাঈল নয়, ইসহাক আলাইহিস সালামের কথাই বলা হচ্ছে। তাহলে আয়াতের পরম্পরা অনুযায়ী দেখুন তো কেমন দেখায় ব্যাপারটি—

প্রথমে পুত্র ইসহাক আলাইহিস সালামের সুসংবাদ দেওয়া হলো। এরপর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ইসহাক আলাইহিস সালামকে কুরবানী করার স্বপ্ন দেখলেন এবং ইসহাক আলাইহিস সালাম রাজি হলেন। ইসহাককে কুরবানী করতে নিয়ে যাওয়া হলো। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কুরবানী করতে উদ্যত হলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনুগ্রহ করে তাকে বাঁচিয়ে দিলেন। এরপর? এরপর আরও নিচে এসে আবারও ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্মের সুসংবাদ দেওয়া হলো।

ব্যাপারটা কেমন বেখাপ্পা দেখাচ্ছে দেখুন। একবার ইসহাক আলাইহিস সালামের জন্মের সুসংবাদ। এরপরে তার বেড়ে ওঠার কাহিনি। তারপরে তাকে কুরবানী করার ও তাকে বাঁচিয়ে নেওয়ার কাহিনি। শেষে এসে আবার তার জন্মের কাহিনি। কেমন ব্যাপারটা?’

আমি বললাম, “হ্যাঁ, পুরোই বিদঘুটে ব্যাপার।

‘ইসহাক আলাইহিস সালামকে এখানে বসাতে হলে কুরআন নিজেই তার বাচনভঙ্গি থেকে সরে যাচ্ছে; কিন্তু কুরআন এখানে ইসহাক আলাইহিস সালামকে নয়, ইসমাঈল আলাইহিস সালামকেই বুঝিয়েছে। তাছাড়া, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইচ্ছার কাছে নিজের জীবন এভাবে উৎসর্গ করে দিতে সর্বোচ্চ ধৈর্য শক্তির পরিচয় দিতে হবে। কুরআনের অনেক জায়গায় ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে ‘ধৈর্যশীল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[১] অন্যদিকে, কুরআনে ইসহাক আলাইহিস সালামকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘জ্ঞানবান’ হিশেবে।[২]

এখান থেকেও উপসংহারে পৌঁছানো যায় যে, সেদিনের ঘটনায় ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সাথে পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ছিলেন, ইসহাক আলাইহিস সালাম নয়।

এছাড়াও, বিখ্যাত তাফসীরকারক ইবনু কাসীর রাহিমাহুল্লাহ তার বিখ্যাত বই আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে ইবনু আব্বাস রাহিমাহুল্লাহর উদ্ধৃতি টেনে লিখেছেন, ‘সেদিন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যে-পশু দিয়ে কুরবানী করেছিলেন তার শিং কাবা শরীফের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে সংরক্ষিত ছিল।[৩]

এখান থেকেও বোঝা যায় যে, উক্ত ঘটনায় সেদিন ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-ই ছিলেন, ইসহাক আলাইহিস সালাম নয়। কারণ, এই বিষয়ে সকল ইতিহাসবিদ একমত যে, কেবল ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-ই মক্কায় অবস্থান করেছিলেন। ইসহাক আলাইহিস সালাম কখনোই মক্কায় আসেননি। তিনি ছিলেন মিশরে। সুতরাং, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মেরও হাজার বছর আগে থেকে আরবরা জানত, এখানে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম নিজপুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে কুরবানী দিতে এনেছিলেন। তাই ইসমাঈল আলাইহিস সালামের সেই স্মৃতি রক্ষার্থে তারা যুগ যুগ ধরে সেটা সংরক্ষণ করে রেখেছিল। যদি ইসমাঈলের জায়গায় ইসহাক আলাইহিস সালাম হতেন, তাহলে পশুর এই শিং প্রাচীন মক্কার আরবদের পাওয়ার কথাই না। এখান থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, সেদিন ঘটনাস্থলে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ছিলেন, ইসহাক আলাইহিস সালাম নয়।

আহসান আঙ্কেল আরও কিছু-একটা বলতে যাচ্ছিলেন। তিনি কিছু বলার আগেই সাজিদ বলে উঠল—আঙ্কেল, Encyclopedia Judaica-তে কী বলা আছে। আপনি জানেন?

আহসান আঙ্কেল বললেন, কী বলা আছে?

To ulik-It is related that a renowned traditionalist of Jewish origin, from the Qurayza tribe, and another Jewish scholar, who converted to Islam, told that Caliph Omar Ibn Abd al- c Aziz (717-20) that the Jews were well informed that Ismail was the one who was bound, but that they concealed this out of jealousy.[৪]

অর্থাৎ ইহুদীরাও খুব ভালোভাবে জানত যে, সেদিনকার ঘটনায় ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সাথে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-ই ছিলেন, ইসহাক আলাইহিস সালাম নয়; কিন্তু ঈর্ষান্বিত ইহুদীরা এটা খুব সুকৌশলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আমি বললাম, এটা স্বীকার করে নিলে তাদের ক্ষতি কী?

সাজিদ আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “ইহুদী এবং খ্রিষ্টানরাও খুব ভালোভাবে জানত যে, শেষ যামানায় একজন ঈশ্বরের দূত আসবে। তারা আশা করে রেখেছিল, সেই দূত হবে ইসহাক আলাইহিস সালামের বংশধরদের মধ্য থেকে। কারণ, ইসহাক আলাইহিস সালাম ছিলেন সারা আলাইহাস সালামের গর্ভের, যিনি একজন স্বাধীন নারী ছিলেন। পক্ষান্তরে, ইসমাঈল আলাইহিস সালাম জন্মেছেন হাজেরা আলাইহাস সালামের গর্ভে, যিনি ছিলেন একজন দাসী। অর্থাৎ একজন দাসীর পেটে জন্ম নেওয়া সন্তানের বংশে ঈশ্বর এরকম একজন সম্মানিত দূত পাঠাবে, এটি অহংকারী ইহুদী-খ্রিষ্টানরা মেনে নিতে পারেনি, তাই।

এতটুকু বলে সাজিদ তার হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আঙ্কেল, আমার আরেকটি ক্লাস আছে। আজকে উঠতে হবে যে।

টেবিলে রাখা বইগুলো সাজিদ হাতে তুলে নিচ্ছে। দেখলাম বইগুলোর মধ্যে মাওলানা আকরাম খাঁ রচিত মোস্তফা চরিত বইটিও রয়েছে। আমি টান দিয়ে সেটা ওর হাত থেকে নিয়ে নিলাম। এত ভালো মানের সীরাত এভাবে হাতছাড়া করা যায় না।

সাজিদ আহসান আঙ্কেলের দিকে তাকিয়ে বলল, “আঙ্কেল, আজ তাহলে আসি?’

আহসান আঙ্কেল আরেকবার হাত বাড়িয়ে দিলেন তার দিকে। হ্যান্ডশেক করা হলে আহসান আঙ্কেল সাজিদের চোখে চোখ রেখে বললেন, ‘Live long my son।

সাজিদ মুচকি হাসল। তার ক্লাসের তাড়া আছে। সালাম দিয়ে সে ক্লাসের উদ্দেশ্যে ছুটল। সাজিদ চলে যাবার পরে আমি আহসান আঙ্কেলের দিকে তাকালাম। মনে হচ্ছে, এই লোকটার বয়স হওয়া উচিত ছিল ৩০ বছর; কিন্তু লোকটা ইতোমধ্যেই ৫০ এর কোঠা পার করে ফেলেছে। তার চেহারা থেকে বিরক্তির আভাটুকু চলে গেছে। বিরক্তির বদলে সেখানে জায়গা করে নিয়েছে এক চিলতে হাসি।
সমাপ্ত

আগের অংশ টুকু পড়তে[এখানে ক্লিক করুন]

রিফারেন্স
১ সূরা আম্বিয়া, ২১ : ৮৫
২ সূরা যারিআত, ৫১ : ২৮
৩ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড : ০১; পৃষ্ঠা : ১৫৭
৪ Encyclopedia Judaica, Volume :09

ব্লগ সাইটটি যদি আপনার মনের কোথাও একটুও যায়গা করে নেয় বা ভালো লেগে থাকে। তাহলে আপনিও ব্লগের কার্যক্রম কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার লেখণী পাঠাতে পারেন।আপনার লেখনী পাঠিয়ে আমাদের ফেচবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে গিয়ে দয়াকরে নক করুন।
নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই “ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন”।

আপনার মন্তব্য লিখুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন !
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন